রাজনীতি ‘জেন-জি’ নিয়ে চমক দেখাবে বিএনপি, মনোনয়ন পেতে পারেন যারা
ছবি: সংগৃহীত
Article information
Author, অনলাইন ডেস্ক
Role,
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:৩১ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জোরেশোরে কাজ শুরু করেছে বিএনপি। দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের দিকেও মনোযোগ দিয়েছে দলটি। অক্টোবর মাসের মধ্যে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করতে চায় দেশের অন্যতম বৃহৎ এই দল। এ লক্ষ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নানাভাবে কাজ করছেন।
দলীয় প্রার্থী ঠিক করার পাশাপাশি সমমনা ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আসন ছাড় ও মনোনয়নের বিষয়টিও দ্রুত সুরাহা করতে চাইছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। এ ক্ষেত্রে বেশি সময় নেওয়া হলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সুযোগ নিতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপির নেতারা।
এবারের সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একক প্রার্থী চূড়ান্তে তৎপর বিএনপি। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে দলটি। তবে আসন্ন নির্বাচনে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। সেজন্য প্রার্থী মনোনয়নে তাদের মনোভাবের কথা আমলে নিতে হবে।
এবার দেশের মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। তাদের ভোট টানতে ইতোমধ্যে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএনপি। এরই অংশ হিসাবে প্রার্থী মনোনয়নে অপেক্ষাকৃত তারুণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে দেখা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সাবেক ছাত্র ও যুব নেতারা এগিয়ে আছেন।
নিজ এলাকায় জনপ্রিয়তা, দলের জন্য ত্যাগ, বিগত দিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে থাকা ও সাংগঠনিক দক্ষতা-এসব মানদণ্ড যাচাই করে প্রার্থী বাছাইপ্রক্রিয়াও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এ বাস্তবতা বিবেচনায় তরুণ প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হবে। মূলত সে কারণেই মনোনয়নে চমক হতে পারেন ‘যোগ্য’ তরুণরা। এরই মধ্যে নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় এ ধরনের শতাধিক নেতা গণসংযোগ শুরু করেছেন। পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন লাভে তারা কেন্দ্রেও দৌড়ঝাঁপ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। মানদণ্ড হবে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, নির্বাচন করার ক্ষমতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং বিগত আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ কেমন ছিল।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, কোনো রাজনীতিতে প্রবীণ ও নবীনের সংমিশ্রণ ছাড়া চলে না। আমরা তরুণদের কথা বলছি , কিন্তু একেবারে যে প্রবীণদের বাদ দেওয়া হবে, এমন নয়। আমরা সেটা কখনো বলিনি। এখানে নবীন এবং প্রবীণের সংমিশ্রণে প্রার্থী দেওয়া হবে। জনগণের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং ভোট টানতে পারবে- তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।
বিএনপি নেতারা জানান, এবারের ভোটে জেন-জিসহ নতুন ভোটারদের মানসিকতা বুঝে প্রার্থী ঠিক করা হবে। সে অনুযায়ী প্রার্থী দিতে হবে। অন্যথায় ভোটের মাঠে প্রত্যাশিত ফলাফলে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। ফলে প্রার্থী বাছাইয়ে তারুণ্যের প্রাধান্য থাকবে।
অপেক্ষাকৃত তরুণ অন্তত শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন—দলের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক, সহ সাংগঠনিক সম্পদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন অসীম, ইশরাক হোসেন, নিপুন রায় চৌধুরী, আবদুল কাদির ভূইয়া, রকিবুল ইসলাম বকুল, খোন্দকার আকবর হোসেন ডাবলু, সাঈদ আল নোমান, ইসরাফিল খসরু, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, মনজুরুল করিম রনি, আনোয়ার আলদীন, খন্দকার মারুফ হোসেন প্রমুখ।
এছাড়া কুড়িগ্রাম, বগুড়া অথবা ঢাকার যে কোনো একটি আসন থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন রুহুল কবির রিজভী।
সিলেট বিভাগ : সিলেট-২ আসনে হুমায়ুন কবির, সিলেট-৪ আসনে মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট-৫ আসনে আশিক উদ্দিন চৌধুরী ও ফাহিম আল চৌধুরী এবং সিলেট-৬ আসনে ড. এনামুল হক চৌধুরী ও এমরান আহমদ চৌধুরীর নাম স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপকভাবে আলোচনায় আছে। হবিগঞ্জ-১ আসনে তালহা চৌধুরী ও শেখ সুজাত মিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনে আহমেদ আলী মুকিব, হবিগঞ্জ-৪ আসনে শাম্মী আক্তার শিপা, মৌলভীবাজার-১ আসনে শরিফুল হক সাজু, মৌলভীবাজার-২ আসনে বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, সুনামগঞ্জ-১ আসনে মাহবুবুর রহমান ও কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এমএ সাত্তার ও কয়ছর এম আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন ও নুরুল হক নুরুলের নামও রয়েছে আলোচনায়।
চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রাম-২ আসনে সাংবাদিক কাদের গনি চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর নাসিরের ছেলে ব্যারিস্টার মীর হেলাল, চট্টগ্রাম-৭ আসনে প্রয়াত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১০ আসনে প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১১ আসনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরুর ছেলে ইসরাফিল খসরু, চট্টগ্রাম-১২ আসনে সৈয়দ সাদাত আহমেদ, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে মিসকাতুল চৌধুরী পাপ্পু ও চট্টগ্রাম-৩ আসনে রফি উদ্দিন ফয়সাল ও মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টনের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে আলোচনায় আছে। ফেনী-১ আসনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, কক্সবাজার-৩ আসনে রাশেদুল হক রাসেল ও ফাহিমুর রহমান ফাহিম, কক্সবাজার-৪ আসনে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে আবু নাছের শেখ, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মামুনুর রশিদ মামুন, নোয়াখালী-৫ আসনে বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, নোয়াখালী-৬ আসনে মাহবুবর রহমান শামীমের নাম এলাকার জনগণের মুখে মুখে ফিরছে।
খুলনা বিভাগ : খুলনায় এবার আগেভাগে মাঠে নেমেছেন সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা। খুলনা-১ আসনে নজরুল ইসলাম পাপুল, খুলনা-৩ আসনে বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনে দলের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৬ আসনে সাংবাদিক আনোয়ার আলদীনের নাম জোরালো আলোচনায় রয়েছে।
বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, বাগেরহাট-৩ আসনে কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, বাগেরহাট-২ আসনে শেখ ফরিদুল ইসলাম, কুষ্টিয়া-১ আসনে শরীফ উদ্দিন জুয়েল, কুষ্টিয়া-২ আসনে অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, মাগুরা-২ আসনে রবিউল ইসলাম নয়ন, মাগুরা-১ আসনে আলী আহম্মেদ, ঝিনাইদহ-২ আসনে ইব্রাহিম রহমান বাবু ও আসাদুজ্জামান আসাদ, ঝিনাইদহ-৩ আসনে আমিরুজ্জামান খান শিমুল, ঝিনাইদহ-৪ আসনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, মেহেরপুর-১ আসনে কামরুল ইসলাম, নড়াইল-২ আসনে মনিরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা-৪ আসনে আমিনুর রহমান আমিন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মাহমুদ হাসান খান, যশোর-১ আসনে হাসান জহির, যশোর-২ আসনে সাবিরা নাজমুল মুন্নি, যশোর-৩ আসনে প্রয়াত স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোর-৫ আসনে মোহাম্মদ মুছা ও যশোর-৬ আসনে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণের নাম উঠে এসেছে।
বরিশাল বিভাগ : বরিশাল বিভাগে প্রবীণ-নবীন দুটোর ওপরই আস্থা রাখতে পারে বিএনপি। বরিশাল-১ আসনে জহির উদ্দিন স্বপন ও আকন কুদ্দুসুর রহমান, বরিশাল-৪ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, বরিশাল-২ আসনে দুলাল হোসেন ও সাইফ মাহমুদ জুয়েল, বরিশাল-৫ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ নির্বাচনি প্রস্তুতি নিয়েছেন। ভোলা-৪ আসন থেকে নুরুল ইসলাম নয়ন, ভোলা-১ আসনে গোলাম নবী আলমগীর, হায়দার আলী লেলিন, পটুয়াখালী-২ আসনে মুহাম্মদ মুনির হোসেন, পটুয়াখালী-৩ আসনে হাসান মামুন, পটুয়াখালী-৪ আসনে এবিএম মোশাররফ হোসেন, পিরোজপুর-১ আসনে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন ও হাফিজ আল আসাদ (সাঈদ খান), পিরোজপুর-৩ আসনে এআর মামুন খান এবং ঝালকাঠি-২ আসনে মাহবুবুল হক নান্নু ইতোমধ্যে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন।
কুমিল্লা বিভাগ (সাংগঠনিক) : কুমিল্লা-২ আসনে অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, কুমিল্লা-৪ আসনে এফএম তারেক মুন্সী, কুমিল্লা-৫ আসনে হাজি জসিম উদ্দিন ও এটিএম মিজানুর রহমান, কুমিল্লা-৯ আসনে আবুল কালাম আলোচনায় রয়েছেন। এ ছাড়া কুমিল্লার যে কোনো আসন থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে ড. খন্দকার মারুফ হোসেনকে নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। সম্ভাব্য এসব প্রার্থী মনোনয়ন পেতে যে যার মতো করে কেন্দ্রেও যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।
মন্তব্য করুন